হেলমেট দুর্ঘটনা ঠেকাতে পারে না, তবে ঠিকমতো লাগানো হেলমেট পড়ে গেলে মাথার আঘাতের তীব্রতা কমাতে পারে। মূল কথা “ঠিকমতো লাগানো”: খুব ঢিলা, পেছনে হেলে থাকা বা বাকল না আটকানো হেলমেট অনেক কম সুরক্ষা দেয়। নিচের পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসড়ক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রশাসন (NHTSA)-এর মতো সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে।
বাংলাদেশে কেন জরুরি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অসামঞ্জস্যপূর্ণ বড় অংশ পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডব্লিউএইচও-র হিসাবে দেশে বছরে সড়কে মৃত্যু হাজার হাজার, আর ঝুঁকিপ্রবণ সড়ক ব্যবহারকারীরা প্রায় অর্ধেক। সাইকেলচালকের জন্য আইনে বাধ্যতামূলক হোক বা না হোক, হেলমেট সস্তা একটি সুরক্ষা।
হেলমেট বাছাই
- ভেতরে লেবেল দেখুন, যাতে স্বীকৃত নিরাপত্তা মান (যেমন CE EN 1078, CPSC বা অনুরূপ) মানা হয়েছে বলা আছে।
- সঠিক মাপ নিন। ভুরুর ঠিক ওপরে নরম ফিতা দিয়ে মাথা মেপে বাক্সের মাপের তালিকার সঙ্গে মেলান।
- পরে দেখুন। চারপাশে আঁটসাঁট লাগবে, কিন্তু কখনো ব্যথা নয়। সমন্বয়যোগ্য প্যাড বা পেছনের ডায়াল ঠিকঠাক করতে সাহায্য করে।
- উজ্জ্বল রং নিন বা রিফ্লেক্টিভ স্টিকার লাগান, যাতে চালকরা আপনাকে দেখতে পান।
- ভালো হেলমেটে বাতাস চলাচলের ছিদ্র থাকে। বাংলাদেশের গরমে এগুলো পরা অনেক আরামদায়ক করে।
ঠিকভাবে পরা: “চোখ, কান, মুখ” পরীক্ষা
- চোখ: হেলমেট সোজা করে পরুন, পেছনে হেলিয়ে নয়। ভুরুর ওপরে দুটি সমতল আঙুল রাখুন। হেলমেটের সামনের কিনারা আঙুলের ঠিক ওপরে থাকা উচিত।
- কান: পাশের ফিতা এমনভাবে ঠিক করুন যেন প্রতিটি কানের ঠিক নিচে ইংরেজি ভি (V) আকার হয়, আর ভি-এর মাথা কানের লতির কাছে থাকে।
- মুখ: বাকল আটকান। চিবুক ও ফিতার মাঝে প্রায় এক থেকে দুই আঙুল জায়গা থাকা উচিত: আঁটসাঁট কিন্তু টানটান নয়। মুখ বড় করে খুলুন। হেলমেট মাথার ওপর সামান্য নিচের দিকে টানবে।
- ঝাঁকুনি পরীক্ষা: মাথা এপাশ-ওপাশ ঝাঁকান ও নাড়ুন। হেলমেট জায়গায় থাকা উচিত, চোখের ওপর নামা বা কপাল থেকে পেছনে সরা নয়।
- ঠেলা পরীক্ষা: হাত দিয়ে হেলমেট ওপরে ও পেছনে ঠেলুন। এক সেন্টিমিটারের বেশি নড়া উচিত নয়।
লম্বা চুল থাকলে
লম্বা চুল নিচু করে ঝুঁটি বা বেণী বাঁধুন, যাতে হেলমেট মাথার ওপর সমানভাবে বসে। উঁচু ঝুঁটি বা খোঁপা হেলমেটকে পেছনে হেলিয়ে দেয়। স্কার্ফ বা হিজাব পরলে পাতলা, গায়ে লেগে থাকা ধরনের বেছে নিন, তার ওপর হেলমেট আবার ঠিক করুন, প্যাড ও ফিতা এমনভাবে বদলান যেন এখনও আঁটসাঁট থাকে। আলগা কাপড় গুঁজে নিন, যেন চাকার কাছে না ঝোলে।
হেলমেটের যত্ন
- সরাসরি রোদ ও গরম থেকে দূরে রাখুন। ছাদের মতো গরম জায়গায় ফেলে রাখবেন না।
- হালকা সাবান-পানিতে পরিষ্কার করুন। কড়া রাসায়নিক ও শক্ত আঠার স্টিকার এড়ান।
- ফেলে দেবেন না, আর বসার জায়গা বা ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
কখন বদলাবেন
- জোরে ধাক্কা বা দুর্ঘটনার পর বদলান, দেখতে ঠিক মনে হলেও। ভেতরের ফোম একবারের আঘাত শুষে নেওয়ার জন্য তৈরি, আর যেখানে দেখা যায় না সেখানে ক্ষতি হতে পারে।
- ফেটে গেলে, ফিতা ছিঁড়ে গেলে বা বাকল ভাঙলে বদলান।
- সাধারণ নিয়মে, অনেক নির্মাতা তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর বদলাতে বলেন, কারণ রোদ, ঘাম ও ব্যবহারে উপাদান ক্ষয় হয়। নির্মাতার পরামর্শ দেখুন।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- NHTSA: Bike safety, fitting a bicycle helmet
- WHO Bangladesh: Global status report on road safety 2018
এই লেখার তথ্য ২০২৬ সালের অক্টোবরে এই পাতাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সংখ্যা ও নির্দেশনা বদলাতে পারে, তাই মূল সূত্র দেখে নিন, আর ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য ডাক্তার বা যোগ্য কোচের সঙ্গে কথা বলুন।